আয়নার সামনে
নিজের সঙ্গে কথা বলা আমার বেশ পুরনো দিনের অভ্যাস।
Stories, pictures, and quiet notes. Not loud. Just steady.
This is not a loud site. It holds stories, a few pictures, and notes on the chain. Read slowly. Leave when you want.
Men Are Brave. Not loud. Just steady.Sobuj · 2026
Tap a card. The full piece opens like a magazine page.
নিজের সঙ্গে কথা বলা আমার বেশ পুরনো দিনের অভ্যাস।
এই পৃথিবীর দিকে বেশি তাকাইয়া থাকলে চোখ জ্বালাপোড়া করে।
রাত বারোটার পরে একটা ছোট শহর, রিকশা, আর খালি রাস্তা।
ফুলের দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়।
তিনটা ছবি। সন্ধ্যার আলো, রেলিং, আর একটা শহর যেটা কথা বলে না।
Tap for full view. Copy the link if you want to share.
A quiet ledger for records that should stay. Not loud. Open day and night.
Read the notesEach story can keep a quiet mark. The public sees the title. The holder keeps the rest.
One lives here, in the journal. One can sit on a chain when the words should not drift.
BTC, SOL, NEAR, AVAX, GRAM, BNB, ETH, ZEC stay in view. The writing does not shout over them.
Writing from a small city. Stories about nights, flowers, and the quiet after. Pictures when words are not enough. Notes on the chain when a record should stay.
Men Are Brave. Not loud. Just steady.
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সঙ্গে কথা বলা আমার বেশ পুরনো দিনের অভ্যাস। কিংবা যতবারই আমি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু সংবাদ শুনি, পরক্ষণেই আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াই। নিজেকে হাতড়ে হাতড়ে দেখি আর অসংখ্য কথা বলি।
ক্ষানিক আগেই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করছিলাম, আচ্ছা, নিজে নিজে মরে যাওয়ার জন্য ঠিক কতটা সাহসের প্রয়োজন?
আয়নার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা আমি অট্টহাসি হেসে নিজেকে করা প্রশ্নের উত্তর দেই। মরে যাওয়ার জন্য এতটাই সাহস প্রয়োজন যে, অনেকে দড়ি ঝুলিয়েও মরতে পারে না, ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। আবার কেউ কেউ দড়িতে ঝুলে পড়েও বেঁচে যায়। তারা আর কোনোদিন মরে যাওয়ার কথা মুখেও আনে না।
অবশ্য আমি এমন গল্পও জানি—কেউ একজন একে একে দুইবার মরে যাওয়ার চেষ্টা করেও বেঁচে যায়। যে মেয়েটার জন্য মরতে বসেছিল সে, আমি তার ছবি দেখেছি। মেয়েটা আহামরি কিছুই নয়। মানুষ কত কত কারণে আত্মহত্যা করে, কখনো কখনো বা কিছু কারণ ভীষণ ক্ষুদ্র।
আজ মেডিসিন নিয়েছি বেশ অনেকক্ষণ হলো। এখনো ঘুম আসছে না। লাবণ্যকে মনে পড়ছে। মনে পড়ছে আমার মুখ ডুবিয়ে রাখা ওর কোমর অবধি লম্বা চুলগুলোকে, ওর বিষণ্ন চোখ, হাতে হাত রাখা নরম হাত, আমার ঠোঁটে মিলিয়ে যাওয়া ওর ভেজা ঠোঁট।
আয়নার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা আমাকে আমি প্রশ্ন করি, আচ্ছা, কী এমন হইত যদি ও থেকে যাইত? যদি সংসারটা হইত ওর সঙ্গে আমার?
মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়া মানুষ, অ্যাম্বুলেন্সের বেডে শুয়ে ফুরিয়ে যাওয়া জীবন—হাতে গোনা কয়দিনেরই বা! চাইলেই একটু কষ্ট করে থেকে যাইতে পারতো।
আয়নার ওপাশ থেকে উত্তর ভেসে আসে, সবুজ, তোকে তো ও চায়ই না। চাইলে হয়তো ঠিকই থেকে যাইতো।
আমি বহুক্ষণ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখি আর খিলখিল করে অট্টহাসি হাসি। এই হাসির গভীরে থাকে না বলা অসংখ্য কথা। আমি জানি, এসবের কেউই কিছু বুঝবে না। তাই আর আমি বলিও না।
আমার হাসির শব্দ আরও জোরালো হয়। মনে হয়, এই ঘরটায় যেন বহুদিন বন্দী থাকা কোনো পাগল—হা হা করে হাসছে।
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সন্ধ্যা। তিনটা ছবি। আলো নরম। রেলিং। একটা শহর যেটা কথা বলে না।
কিছু লেখার দরকার ছিল না। ছবিগুলোই যথেষ্ট।
এই পৃথিবীর দিকে বেশি তাকাইয়া থাকলে আমার চোখ জ্বালাপোড়া করে, মন খারাপ হয়। মনে হয়, কী অদ্ভুত সুন্দর এক নরকের মাঝখানে দাঁড়াইয়া আছি!
আমি ভেবে কূল পাই না, এই দুনিয়ার মতো এত বিভৎস জায়গায় কেমনে ফুল ফোটার মতো সুন্দর ব্যাপার ঘটে, কেমনে আকাশে মেঘ উইড়া বেড়ায়, কেমনে বৃষ্টি নামে?!
এই যে কেউ হারাইলো তার সন্তানরে, কেউ হারাইলো তার প্রিয় মানুষরে। এই যে পৃথিবীর প্রত্যেকটা বিন্দুতে বিন্দুতে লুকাইয়া আছে প্রতারণা। এত কিছুর পরেও এই পৃথিবী সুন্দর কেমনে হয়?
আমার এই নরকের মাঝে দাঁড়াইয়া থাকতে থাকতে মাথা ভার হয়ে আসে। কিছুই ভালো লাগে না। খালি মনে হয়, একটা কেয়ামত হোক। পৃথিবীটা ওলট-পালট হইয়া সব ফুরাইয়া যাক।
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাত ১২ টারও বেশি। এই ছোট্ট শহরটা অনেক আগেই শান্ত হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও দু-একজন মানুষ, মাথার ওপর সোডিয়াম আলো আর আমি। যে এমন নিস্তব্ধ শহরে অন্ধকারের বুক চিড়ে পথ হাঁটেনি, সে কোনো দিন জানতে পারবে না রাতের আসল সৌন্দর্য কী।
আমি অনেকক্ষণ যাবৎ হাঁটছি। কখনো সঙ্গী হিসেবে পেয়েছি নিজের ছায়াটাকে, গভীর অন্ধকারে সেটাও নেই। ঠোঁটে অসংখ্য সিগারেট পোড়ানোর পরেও এখনো পকেটে ছয়টা সিগারেট বাকি। এগুলোও শেষ করতে হবে।
রাত গভীর থেকে আরও গভীরে চলে যাচ্ছে। ভাবছি, ঘরে ফেরার আগে শেষ সময়টুকু রিকশায় ঘুরব। বহু খুঁজে একটা রিকশা পাওয়া গেল। রিকশাওয়ালা মামা জিজ্ঞেস করছিল, কই যাইবেন, মামা? আমি আদতে জানি না, কোথায় যাব আমি। আমার কোনো গন্তব্য নেই। ভাবলাম, কিছুটা স্মৃতি রোমন্থন করা যাক আজ।
রিকশাওয়ালাকে বললাম, মামা, বর্ডার গার্ড স্কুলের দিকে চলেন। ঠিক স্কুলের গেটের সামনে গিয়ে দাঁড়াবেন। রিকশা চলছে। আমি একটা সিগারেট ধরালাম। রিকশা স্কুলের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। স্কুলের দিকে তাকিয়ে রইলাম খানিকক্ষণ। নিজে নিজে বিড়বিড় করে বললাম, লাবণ্য পড়ত এখানে। বহুদিন এই রাস্তাটা দিয়ে ওর আর আমার আসা-যাওয়া হয়েছে।
রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলাম, মামা, এত রাতে কি ফুলের দোকান খোলা আছে? ফুলের দোকান বন্ধ ছিল। পকেটে তখনো দুইটা সিগারেট। আমি একটা জ্বালালাম। আকাশে অসংখ্য তারা মিটমিট করে জ্বলছে। তবে এমন রাতে জ্যোৎস্না থাকলে ভালো হতো।
জ্যোৎস্নার কথা মনে পড়তেই একটা গানের দুটো লাইন গুনগুন করে গাইতে লাগলাম, “ঘর খুলিয়া বাহির হইয়া জোছনা ধরতে যাই, হাত ভরতি চান্দের আলো ধরতে গেলে নাই।”
আমি রিকশা থেকে নেমে পড়লাম। শেষ সিগারেটটা জ্বালিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম। স্টেশন পর্যন্ত হেঁটে যাব। এই রাস্তাটা ভীষণ সুন্দর। আমি হাঁটতে হাঁটতে ভাবছি, এই ফিকে হয়ে যাওয়া ভালোবাসার যুগে আমার মতো মানুষেরা বোধহয় কেবল বিলীন হয়ে যাওয়ার জন্যই এসেছে।
রাতের গভীরতা আরও বেড়েছে। রাস্তাঘাট একেবারে শূন্য। আমার ঘরে ফিরতে হবে। নানান চিন্তায় ভার হয়ে আসা মাথা নিয়ে আর দাঁড়িয়ে থাকা যাচ্ছে না। একগাদা ওষুধ গিলে ঘুমোতে হবে। না ঘুমোতে পারলেই মরণ।
১২ আগস্ট ২০২৬
ফুলের দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ মনে পড়ল, বহুদিন কারও জন্য ফুল কেনা হয়নি। শেষবার ফুল কিনেছিলাম লাবণ্যর জন্য। বারান্দার রেলিংয়ের দিকে হাত বাড়িয়ে বেশ কষ্ট করে দিতে হয়েছিল সেই ফুল। ওকে কিছু দিতে পারলে ভালো লাগত আমার। বুঝতে পারিনি, সেসব জিনিস ওর কাছে কেবল সস্তা বস্তু ছিল। আমার খারাপ লাগবে ভেবে হয়তো কখনো বলেনি।
যাকগে, আজ নিজের জন্য একটা গোলাপ কিনেছি। যদিও গোলাপ আমার পছন্দ নয়। আমার পছন্দ বেলিফুল। নিজেকে গোলাপটা দিয়ে বললাম, “তোমার নিজেকে ভালোবাসা উচিত, সবুজ।” এরপর গোলাপটাকে নিষ্ঠুরভাবে ছুড়ে ফেলে দিয়েছি রাস্তায়। ফুলের প্রসঙ্গ এখন থাক।
আমি সিগারেট টানতে টানতে আসলে ভাবছি অন্য কিছু। যার জন্য কিছুদিন আগেও মরে যাওয়ার কথা ভাবছিলাম, আজকাল তার কথা ভেবে আর খারাপ লাগে না। না তার প্রতি ভালোবাসা আসে, না ঘৃণা। তবে হ্যাঁ, মাঝে মাঝে ওর চেহারাটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। তখন আমি আকাশের দিকে তাকাই। উড়ে যাওয়া মেঘ দেখি, পাখি দেখি।
খানিক আগেও যে পথটা ধরে রিকশায় করে এলাম, বহুদিন ওর সঙ্গে সেই পথেই হাতে হাত রেখে ঘুরেছি। আজ থেকে কিছুদিন আগেও ওই পথ ধরে হাঁটতে পারতাম না। ওর স্মৃতি মাথার ভেতরটা খুবলে খেত। কিন্তু আজ আর খারাপ লাগেনি। উল্টো অট্টহাসি হেসেছি। নিজেকে বলেছি, “সবুজ, তুই কী ভীষণ বোকা!”
নিজেকেই প্রশ্ন করেছি, “আচ্ছা, একটা মানুষ এতবার ছেড়ে দেওয়ার পরেও তাকে কেউ ফিরিয়ে নেয়? তোর জায়গায় অন্য কেউ হলে হয়তো এই বোকামিটা করত না।” সাইকিয়াট্রিস্টও তো এই কারণেই তোকে বলেছিল, “সবুজ, আপনি তো বোকার থেকেও বেশি বোকা।” আচ্ছা, তুই তো জানতিস ওর ছেড়ে দিয়ে থাকার অভ্যাস আছে। তুই তো জানতিস, যে একবার ছেড়ে যেতে পারে, সে বারবারও পারে।
আমি নিজেকে করা প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তর জানি। হাতের সিগারেটটা কখন ফুরিয়ে গেছে, এসব লিখতে লিখতে খেয়ালই করিনি। আমি আরেকটা সিগারেট জ্বালালাম। তারপর কী যেন ভেবে খানিকটা হাসলাম।
আর কে যেন একটা কথা বলছিল, এই পৃথিবীতে ভালোবাসার ব্যাপারগুলো অনেক আগেই ফিকে হয়ে গেছে। মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক এখন কেবল বিনিময়ের। এই ব্যাপারগুলো যে যত তাড়াতাড়ি বুঝতে পারবে, তার জন্য ততই ভালো।
২৭ জুলাই ২০২৬
Counted in this browser.
Bangladesh
USA
UK
Age range held as a placeholder. This page does not read anyone's age.